খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

উনত্রিশের আহ্বান, রক্তদানে "বাঁচুক প্রাণ" কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
উনত্রিশের আহ্বান, রক্তদানে "বাঁচুক প্রাণ" কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ

ছবি যোগফল

মোঃ হাসান মাহমুদ জয় | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: 

‘উনত্রিশের আহ্বান, রক্তদানে বাঁচুক প্রাণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে ৩০  বছরে পদার্পণ করেছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’। 

দিনটি উপলক্ষে  ‘বাঁধন, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ইউনিট, রংপুর জোন’ -এর আয়োজনে আলোচনা সভা, কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ, পুরস্কার প্রদান ও তাবারক বিতরণসহ নানা উৎসবমুখর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়


শিক্ষার্থীদের মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ সাইফুর রহমান সরকার। অনুষ্ঠানে  আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রাশেদুল ইসলাম উপদেষ্টা বাঁধন, কু.স.ক ইউনিট আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ তাহসিনুর রহমান তমাল । সাধারণ সম্পাদক (২০২৩ সেশন) মোঃ আবু বকর সিদ্দিক সভাপতি (২০২৫ সেশন)

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বাঁধন সরকার  এবং সঞ্চালনা করেন  জিহাদ হোসাইন সহ-সভাপতি বাঁধন,কু.স.ক ইউনিট  এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন মিয়া। 

প্রধান অতিথি উপাধ্যক্ষ  ড. মোঃ সাইফুর রহমান সরকার  বলেন বাঁধন একটি অরাজনৈতিক অসাম্প্রদায়িক সেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা মুমূর্ষের রোগীর জীবন বাঁচাতে রাতদিন ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিনামূল্যে রক্ত সরবরাহ করে তাদের এই মহৎ কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হয়ে সুন্দর সমাজ বিনির্মানে কাজ করা উচিৎ। 

মো: তাহসিনুর রহমান তমাল বলেন, এক ব্যাগ রক্ত একটি “জীবন” এক ঝাক নিবেদিত প্রাণ একটি “বাঁধন” 
সংগঠন হচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ জনগোষ্ঠী যারা একটি নিদিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করে তেমনি আমরা বাঁধন সদস্যবৃন্দে ঐক্যবদ্ধভাবে  প্রচেষ্টা করি তাহলে সেইদিন হবো সার্থক যেদিন আমাদের স্বপ্ন  বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ নিজ রক্তের গ্রুপ জানবে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসবে। 
আলোচনা সভায় সভাপতি বাঁধন সরকার নতুন প্রজন্মকে মানবিক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "লেখাপড়ার পাশাপাশি সকল প্রকার মানবিক ও সামাজিক কাজে তরুণ সমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।"

সংগঠনের উপদেষ্টা রাশেদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বাঁধন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও মানবিক আদর্শ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের শ্রম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই মানবিক বার্তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। একদিন এই সংগঠন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে আরও হাজারো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠবে।"

বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষা কর্মসূচি:

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে 'বাঁধন, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ইউনিট, রংপুর জোন’ -এর উদ্যোগে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে  গাছের চারা রোপণ করা হয়। রক্তদানের মতো মানবিক সেবার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

দীর্ঘ ২৯ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথচলা:
১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল থেকে যাত্রা শুরু করে ‘বাঁধন’। দীর্ঘ ২৯ বছরের পথচলায় সংগঠনটি দেশের ৬১টি জেলায়, ৯৪টি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৬টি জোন, ১৫০টি ইউনিট এবং ১৭টি পরিবারের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সংগঠনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাঁধন ১২ লাখ ২৭ হাজার ৮৬৫ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করেছে এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫১০ জন মানুষকে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দিয়েছে।

দুর্যোগ ও সংকটে মানবতার পাশে:

কেবল রক্তদানই নয়, যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি। তাঁদের সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

২০২৪ সালের বন্যা পুনর্বাসন: ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চাঁদপুর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ৭,৫০০টিরও বেশি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

জরুরি কুইক রেসপন্স: মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার মতো আকস্মিক বিপদে তাৎক্ষণিক "কুইক রেসপন্স টিম" গঠন করে জরুরি ভিত্তিতে রক্তদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

২০২৬ সালের ত্রাণ ও পুনর্বাসন: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ১২০টি পরিবারকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে গৃহহীন ও নিঃস্ব ১৩টি পরিবারকে মোট ৩২২ পিস নতুন ঢেউটিন এবং এক অসহায় নারীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের পক্ষ থেকে দেশের সর্বস্তরের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রক্তদাতাদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। রক্তের প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণ সমাজকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে বাঁধনের এই দিগন্তপ্রসারী অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত-এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: তারেক রহমান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত-এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: তারেক রহমান

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজের রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা সহ্য করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, আটক ও রিমান্ডের ঘটনা তুলে ধরার পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’ তিনি আরও লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছে যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটাও সহ্য করতে পারছে না।’

রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সহযোদ্ধাদের মধ্যে অনেককেই জীবিকা নির্বাহের জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। তিনিও কিছুদিন প্রবাসীদের দেওয়া অর্থে খাবার, বাসাভাড়া ও গাড়িভাড়া মিটিয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, পরে ওই নির্ভরশীলতা থেকে বের হয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছেন। বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে তাঁকে দারিদ্র্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ফল ও মধুর ব্যবসা করার কথাও তুলে ধরেন।

নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তারেক রহমান দাবি করেন, ২০১৮ সালের আন্দোলনের লিফলেট, মোদিবিরোধী আন্দোলনের লিফলেট এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারণায় জনপ্রিয় হওয়া লিফলেট তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল।

নিজের আটক, গুম ও রিমান্ডের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথম আটক হন। একই বছরের ১৪ জুলাই দ্বিতীয়বার গুম হন বলে দাবি করেন তিনি। এরপর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডিবি তাঁকে আটক করে এবং পরবর্তী সময়ে ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডে থাকার কথা জানান তিনি।

জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বিরোধকে রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখতে চান না উল্লেখ করে তারেক রহমান লেখেন, ‘যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নেই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ।’

পোস্টে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলার বিরোধিতা করা হয়েছিল। এর বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে জামায়াতের নেতাদের ভারত-সংশ্লিষ্টতা নিয়েও তিনি বিভিন্ন দাবি করেন। তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

বিএনপির নেতাদের পদায়ন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। নিজের বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনায় বিচলিত নন জানিয়ে তিনি জুলাই-সম্পর্কিত মামলায় কারাগারে থাকা কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা থাকলে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁকে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জামিনে থাকা অবস্থায় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা সম্ভব। তাঁর মতে, জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর একটি উপায় হতে পারে এ উদ্যোগ।

পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান বাংলাদেশপন্থি দল, জাতীয়তাবাদী দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি তাঁকে সঙ্গে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশ করেন তিনি।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় গাফিলতি নয়, সরকারের প্রতি নাহিদ ইসলামের আহ্বান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় গাফিলতি নয়, সরকারের প্রতি নাহিদ ইসলামের আহ্বান

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসায় প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কোনো ধরনের গাফিলতি যেন না হয়, সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদেরচালায় জুলাই আন্দোলনে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করা মো. বাপ্পিকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফসল। হাজারো মানুষের জীবনদান, অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে নির্বাচন ও সরকারের ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি হয়েছে। তাই রাজনীতিসহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে আহত যোদ্ধাদের প্রতি সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেন তাঁদের চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আহত যোদ্ধাদের আর্থিক সহযোগিতা, পুনর্বাসন, তাঁদের পরিবারের সহায়তা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ছিল। একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব, রাষ্ট্রের পক্ষে তার চেয়ে অনেক বেশি করা সম্ভব।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আহতদের জন্য অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হলো সেগুলোর যথাযথ দেখভাল করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধারা এ দেশের বীর। তাঁদের বীরত্বের কারণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। তাঁদের ত্যাগের কারণেই আজ মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারছে। তাঁদের যেন কখনো ভুলে যাওয়া না হয়। অনেকেই হয়তো আর সুস্থ জীবন ফিরে পাবেন না। তাই রাষ্ট্র হিসেবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল্লাহ হায়দার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আলী নাসের খান এবং গাজীপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম